I’ve known her I guess ten years or more.
Joni wrote me a note one day
And this is what she had to say.
Jimmy please say you’ll wait for me
I’ll grow up someday you see
Saving all my kisses just for you
Signed with love forever true
Slowly I read her note once more
Then I went over to the house next door
Her tear-drops fell like rain that day
When I told Joni what I had to say.
Joni, Joni please don’t cry
You’ll forget me by and by
You are just fifteen and I’m twenty two
And Joni I just can’t marry you
Soon I left our little home tow
Got me a job and tried to settle down..
‘প্রতিবেশিনী’কে নিয়ে গাওয়া বিখ্যাত একটা গান (singer –এর নাম এ মুহূর্তে মনে করতে পারছি না)।
Hollywood –এ ‘The girl next door’ নামে বেশ কয়েকটা ছবি এবং একই নামে Jack Ketchum –এর লেখা বিখ্যাত একটা বইয়ের কথাও আমি শুনেছি।
অতদুর যেতে হবে না, আমাদের প্রাণের রবি ঠাকুরও বহু বছর আগে ‘প্রতিবেশিনী’ শিরোনামে একটা গল্প লিখে গেছেন।
প্রতিবেশিনীকে নিয়ে অনেকে হয়তো আরও অনেক কিছুই করেছে। ‘পাশের বাড়ির মেয়েরা’ যুগে যুগে নানা জনকে নানাভাবে অনুপ্রাণিত করেছে- করছে।
আমারও এক প্রতিবেশিনী আছে। না... একজন নয়, প্রতিবেশিনী তো অনেক আছে; তবে একজন অনেকের মধ্যে একজন।
প্রতিবেশিনী বলতে আমিও কিন্তু ওই ‘next door girl’ –এরই কথা বলছি।
একটা কথা আগাম বলে রাখা উচিৎ, এখানে আমার কিছু কথা একপেশে মনে হতে পারে। এখানকার কিছু কথা আমার একান্তই ধারণালব্ধ্য হয়ে থাকতে পারে –যেগুলোকে সত্য হিসেবে জাহির করার জন্য প্রদত্ত যুক্তিগুলো হয়তো খুব একটা জোরালো বলে বিবেচিত হবে না।
কোথা থেকে শুরু করি...
তাঁর রুপ দিয়েই শুরু করা যেতে পারে –রুপের চেয়ে মস্ত টপিক আর কী বা আছে?
আমার প্রতিবেশিনীও তাঁর রুপের মহিমায় আমার চারপাশের লোকগুলোকে অনেকখানি কাত করতে সমর্থ হয়েছে। নইলে এমনটা হবে কেন?!! সবাই শুধু তাঁর ‘রুপভর্তি’ প্রশংসার ডালি নিয়ে আমার সামনে আসে।
‘তোর বাড়ির পশ্চিমের মেয়েটা কী দেখতে রে! হাইটাও পারফেক্ট, হাতছাড়া করিস না –নইলে পরে পস্তাবি।’ –আমার বেশ কয়েকজন উদ্ভট ‘বন্ধুবরেরা’ আমায় সামনে পেলেই তাদের এই স্বরচিত উদ্ভট মন্ত্র জপা শুরু করে দেয়।
আমার বাড়ির কাছে এরকম একটা মেয়ে অথচ আমার কোন হুঁশ নেই –এ নিয়ে ওদের হা-হুতাশের শেষ নেই। প্রতিবেশিনীর মত মেয়েরা খুবই ‘দুর্লভ প্রজাতির মেয়ে’ –এটা তারা নানা ছুতোয়, নানা আজুহাতে আমায় বোঝানোর চেষ্টা করে। প্রতিবেশিনীকে আমার কাছে ‘লাস্যময়ী নারী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তারা চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখে না।
আর তাঁর নামের সাথে আমার নাম জড়িয়ে ঠাট্টা-ইয়ার্কি, সে তো নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। এমনকি একসময় বাড়ির কাকীমা, কাকাতো বোনরাও মিস যেত না। নন্দিনী তো প্রায়ই বলতো, ‘ও কেন এত সুন্দর হচ্ছে রে, কী মাখাচ্ছিস ওকে?’
আমি যে সবসময় চুপ মেরে থাকতাম এমনটাও কিন্তু নয়। ওর দু’জন বান্ধবী (আমারও পরিচিত) প্রায়ই আমাকে ওর কথা বলতো, ‘ওর সাথে প্রেম করতে রাজী কি না?’ একজন তো এ ব্যাপারে সাহায্য করারও আশ্বাস দিত। আমার ধারণা ছিল ওরা আমার পরীক্ষা নিচ্ছে। আমিও তখন ‘শাহীদ আফ্রিদি’ হয়ে উঠতাম। ফ্রন্টফুটে গিয়ে মেরে দিতাম, ‘তোমাদের এই বান্ধবীর চেয়ে আমার ঠাকু’মাই অনেক সুন্দরী ছিল।’
H.S.C পড়ার সময় রসায়নের এক স্যারের কাছে প্রাইভেট নিলাম। স্যার আমায় নতুন দেখে "বাড়ি কোথায়" জানতে চাইলেন?
গ্রামের নাম শোনার পর প্রতিবেশিনীর নাম করে জানতে চাইলেন –ওকে চিনি কি না?
বললাম, চিনি –একই গ্রামে বাড়ি। স্যার কেমন যেন একটু অন্যমনস্ক হয়ে বললেন, ‘মেয়েটা খুব সুন্দর’!
আমার দাদুর বয়েস প্রায় পঁচাত্তরের মত। দু’তিন বছর আগে তাঁকে একদিন বলতে শুনেছিলাম, ‘অমুকের মেয়ের খুব ভাল জায়গায় বিয়ে হবে, পড়াশোনা করছে- দেখনেওয়ালী’। আমার মনে আছে, সে সময় দাদুর ‘মানুষের মুখ চেনা’ জনিত সমস্যাও লক্ষ্য করতাম। পরিচিত কাউকে অনেকদিন পর হঠাৎ দেখতে পেলে তিনি সহজে চিনতে পেতেন না, ‘এ অমুক না, সে তমুক না’ করতেন। দাদুর প্রবলেম-অলা ওই দৃষ্টিতে প্রতিবেশিনীর রুপ কিন্তু ঠিকই ধরা পড়েছিল।
2010 –এর শেষের দিকে মাগুরা থেকে দু’জন বন্ধু আমার বাড়ি এসেছিল। এসেই ওরা এলাকার প্রচন্ড নিন্দা করতে লাগলো। ‘তোদের এলাকা অনুন্নত- এলাকায় এটা নেই, সেটা নেই...।’ সবচেয়ে বেশী নিন্দা করলো মেয়ে নিয়ে। এলাকায় দু’দিন ঘুরেও কোন রূপসী ললনা নাকি ওদের নজরে পড়লো না।
তৃতীয় দিন সকালে ওদের নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়েছি, রাস্তায় হঠাৎ প্রতিবেশিনীর আবির্ভাব- সাত সকালে সেজেগুজে কোথায় যেন যাচ্ছে? এবার ওরা বোল পাল্টালো, ‘ইসসসসস... এতক্ষণে একটা মেয়ে দেখলাম রে!!!’
এরপর আরও কত্তো রকম প্রশংসা। দুর্ভাগিনী- প্রতিবেশিনী, ওগুলো তাঁর কান অব্দি পৌঁছালো না। আমার মনে হচ্ছে... এমন প্রশংসা বাক্য শুনলে তাঁর ‘মানবী জীবন’ ধন্য মনে হতো।
দু’বছর পার হয়ে গেছে কিন্তু প্রতিবেশিনীর রুপমুগ্ধতার রেশ এখনও ওদের মধ্যে রয়ে গেছে। তখন থেকে এমনটা সধারণত কখনই হয় না যে, ওরা দু’জন কল দিয়েছে কিন্তু প্রতিবেশিনীর কথা জিজ্ঞেস করে নি...! আমিও ইনিয়ে_বিনিয়ে আবোল তাবোল যা মনে আসে তাই বলে ফেলি।
এ তো গেল বড়দের কথা। প্রতিবেশিনীর রুপের মহিমায় মহিমান্বিত হওয়ার দৌড়ে ছোটরাও খুব একটা পিছিয়ে নেই।
আমার মাসিতো ভাই-ও বছর দেড়েক আগে প্রতিবেশিনীর ‘প্রেমে হাবুডুবু খেতে চাইতো’। মাঝেমধ্যে সে ফোন দিয়ে বলতো,‘উঃ দাদা, তোমার বাড়ির পাশের মেয়েটা কী দেখতে দাদা!!!’
আমি ওকে বোঝাতাম, তোর চেয়ে বয়সে অনেক বড় রে, তার উপর আবার...।
[সে এখন অবশ্য আর ওরম করে না, সে এখন অনার্স ফাইনালে
পড়ছে... ওর এখন বুঝ হয়েছে]
কাশীনাথ নামে আরেক জন একদিন কল দিয়ে রেগেমেগে বলতে লাগলো, ‘দাদা আপনার বাড়ির পাশের মেয়েটার ব্যবহার ভাল না, ভালভাবে কথা বলতেও জানে না।’
জানতে চাইলাম, কেন -কি হয়েছে?
সে বলতে লাগলো, ‘কোশ্চেন চেয়েছিলাম, আরে দিবি না ভাল কথা- জ্ঞান দিচ্ছে... গাইডের পেছনে দেখ।’
ঘটনা শুনে আমি আর হাসি চাপাতে পারি নি। সে প্রতিবেশিনীর মোবাইল নাম্বার জোগার করে তাঁকে একদিন কল দিয়েছে, বিগত সালের প্রশ্নপত্রের খোঁজে। কী মনে হচ্ছে... বিগত সালের কোশ্চেন ওই ছেলে আর কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। তাই সে বাধ্য হয়ে প্রতিবেশিনীকে কল দিয়েছে, যে ওকে ভালভাবে চেনে না- জানে না।
‘দাদা, আপনার পাশের বাড়ির মেয়েটাকে আমাকে দেবেন? –কাশীনাথ ঠাট্টা করে এরকম কথাও একবার আমাকে বলেছিল।
অন্যের কথা নিয়ে তো অনেক প্যাঁচাল হল- এবার নিজের কথায় আসি।
আমার চারপাশের লোকগুলোর মুখে মুখে তাঁর কথা। এখন যদি আমি বলি যে, প্রতিবেশিনীর মুখের পানে চাইলে ‘বুকটা কেমন যেন হু হু করে ওঠে- জগৎ সংসার তুচ্ছ মনে হয়’। কিংবা যদি বলি, ‘তাঁর মুখের পানে চাইলে বুকের মাঝে সুখের মত ব্যাথা বোধ হয়’। আমার বন্ধুদের কাছে সেটা হয়তো বিশাল একটা রোম্যান্টিক ব্যাপার_স্যাপার হয়ে ফুটে উঠবে, কিন্তু সবার অগোচরে নিজের বিবেকের কাছে আমি just নিরেট মিথ্যুক হিসেবে প্রতিপন্ন হব।
ক্লাস ফাইভে থাকতে সে প্রতিদিন আমাদের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে আসতো। সেই সময়টার কথা মনে পড়লে আজও আমার খুব হাসি পায়। যদিও ব্যাপারটা আমার জন্য মোটেও খুশীর কিছু নয়- বরং বেশ লজ্জাজনক। প্রাইভেটে স্যারের দেয়া পড়াগুলো সে অনর্গল মুখস্ত বলতো... অন্যদিকে আমি কোনদিনও পড়া করে আসতে পারতাম না। এর শাস্তি স্বরূপ অমরেষ পুরীর মত দেখতে সেই স্যার আমার হাতের ‘তালায়’ সপাটে বসিয়ে দিতেন......।
ক্লাস ফাইভ- সিক্স- সেভেন, এই তিন বছর আমরা একসাথে ছিলাম, মল্লিকপুর স্কুলে একসাথে প্রাইভেট পড়তে যেতাম। কিন্তু এরপর যতই সময় গড়াতে লাগলো ততই সবকিছু পাল্টাতে লাগলো। এরপর ওই মেয়ে যত বড় হচ্ছে ওর লজ্জাও তত বেড়ে উঠছে। আমাদের বাড়ির পাশের রাস্তা ধরে স্কুলে যাওয়ার সময় সে পিঠের ব্যাগ দু’হাতে বুকে চেপে মাথা নিচু হাঁটতো। ততদিনে দু’জনের মধ্যে কথা বলাও বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেটা তেমন কোন কারণ ছাড়াই।
সময় বাড়ার সাথে সাথে অবস্থা আরও খারাপ হতে লাগলো, টিনএজ –এর শেষের দিকে এসে তা চরমে উঠলো।
ওই দৃশ্যগুলোর কথা মনে পড়ছে আর মেজাজটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সেই সময় রাস্তায় আসতে যেতে প্রায় প্রতিদিন ওর সাথে সাক্ষাৎ হতো এবং যে আচরণটা সে আমার সাথে করতো... এ জীবনে এখন পর্যন্ত কোন মেয়ে আমার সাথে ওরম করে নি। রাস্তায় আমায় দেখা পাওয়া মাত্র কাছাকাছি আসার ১০০ গজ দূর হতেই সে তাঁর ‘আড়াল করার নিমিত্তে ব্যবহৃত বস্ত্রাদির’ সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠতো। কথা শুনে মনে হতে পারে এই ছেলে একটা মেয়ের সহজাত প্রবৃত্তিকে খামোখা হাইলাইট করার চেষ্টা করছে। মানছি ‘অ-সম্পর্কের’ একটা ছেলে সামনে আসলে যেকোন মেয়েই ওরম করবে, কিন্তু তাঁর কাপড়_চোপড় ঠিক করার দৃশ্যাবলী দেখতে আর পাঁচটা মেয়ের মত ছিল না। রবি ঠাকুরের ভাষায় বলতে গেলে সেটা, ‘শরমে মরিতে চায় অঞ্চল আড়ালে’ টাইপের...। সেই সময় তাঁর মাসিতো না মামাতো বোনও তাঁদের বাড়িতে থেকে পড়তো এবং সবসময় তাঁর সাথে থাকতো, কই সে তো ওরম করতো না?
কী জানি বাপু... এর অন্য কারণও থাকতে পারে। হতে পারে প্রতিবেশিনী লজ্জাবতী লতা আর ওর মাসিতো/মামাতো ‘চুলকানীবতী বিছাতু’।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, শুধুমাত্র আমাকে দেখেই যে সে ওরম করতো সেটার নিশ্চয়তা কী? অথবা আমি যে নিজেকে স্পেশাল হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছি না সেটাই বা কীভাবে প্রমাণিত হবে?
রাস্তায় ছেলেমানুষের অভাব নেই, এমনটা হলে রাস্তায় চলতে ফিরতে সবসময় ওকে সেই কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে। আর এমনটা হলে কমনসেন্স কী বলবে? ‘ওটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার’???
আজও আমার জানতে ইচ্ছে করে, অমন অস্বাভাবিক ভাবে কাপড়_চোপড় ঠিক করার সময় প্রতিবেশিনী কী ভাবতো? আমি মহাভারতের দুঃশাসনের আধুনিক সংস্করণ –বস্ত্রহরণ পর্বের ভিলেন?
প্রতিবেশিনীর ওই কান্ড কীর্তি আমায় বড্ড বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতো। ও সামনে এলেই আমি কেমন যেন অপ্রস্তুত হয়ে যেতাম, সেই সাথে অবশ্য সেটাও উপলব্দি করতাম, যাক বড় হয়ে যাচ্ছি তাহলে...।
প্রতিবেশিনীর সাথে আমার last কথা হয়েছে সেও প্রায় ৬-৭ বছর আগে, H.S.C দেয়ার সময়। সেটা সম্ভবত পদার্থ পরীক্ষার দিনে...। ওরা চার- পাঁচ জনের একটা দল যাচ্ছিল। সত্যি! বাহাদুর ছিলাম বটে!!! আমি ওদের পেছনে; ১৮-২০ গজ দূর থেকে ওর নাম ধরে দিলাম, এই * শোন তো...।
আমাকে অবাক করে দিয়ে, ‘দল’ রেখে পেছনে ফিরে এসে সে আমাকে রিসিভ করতে এলো। আর নিজেকে বাহাদুর বললাম এই জন্য কারণ, ওতে অনেক ঝুঁকি ছিল। তার আগে ওর সাথে আমার শেষবার কথা হয়েছিল সেও প্রায় তিন বছর আগে। ডাকে সাড়া না দেয়ার আশংক্ষা ছিল যথেষ্ট পরিমানে [এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গেলে আরও অনেক বিষয় এসে যাবে -অনেক পাতা খরচ হবে]। তার উপর আবার সেটা ছিল ‘শরমে মরিতে চায় অঞ্চল আড়ালে’র ভরা মৌসুম। ওর সাথে আরও তিন-চার জন মেয়ে ছিল, আমার ডাকে যদি সে সাড়া না দিত, কোথায় গিয়ে ঠেকতো আমার সন্মানটা; এত গুলো মেয়ের সামনে...?
ওই ‘রানীকীয়’ সন্মানটা অবশ্য বেশীক্ষণ স্থায়ী ছিল না। ওদের দলে ভিড়ে গল্পে-গল্পে, হাঁটতে-হাঁটতে কিছুদূর গিয়ে দেখি রাস্তার পাশে ওদের অপেক্ষায় আরেক মেয়ে দাঁড়িয়ে। সে দলে যোগ দেয়ার সাথে সাথে প্রতিবেশিনী বলে উঠলো, ‘তুই এখন যা রে; আমাদের দলটা এখন বড় হয়েছে, আমরা এখন আস্তে আস্তে হাঁটবো।’
তাঁর ওই কথা শুনে আমার কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল –সেটা এখন বলতে চাচ্ছি না।
এরপর প্রায় সাত বছর হয়ে গেছে, মাঝেমধ্যেই ওর সাথে আমার সামনা সামনি সাক্ষাৎ হয়। নিজের অভিনয় প্রতিভায় তখন আমি মুগ্ধ না হয়ে আর পারি না...। দেখেও না দেখার ভান করে তাঁকে সযত্নে এড়িয়ে যাই।
প্রতিবেশিনীকে এড়িয়ে আমি সঠিক কাজটাই করি এবং এ নিয়ে আমার মনে কোন doubt নেই। তাঁর পূর্ণিমার জ্যোৎস্নার মত ঝক্ ঝকে রুপের কাছে হার মেনে ধপ্ করে যদি তাঁর প্রেমে পড়ে যাই, কিংবা হঠাৎ যদি কোন একদিন উপলব্দি করা শুরু করি, ‘এই মেয়েকে না পেলে বেঁচে থাকার কোন মানে হয় না...’ তখন কী হবে?
প্রতিবেশিনী সেই মেয়ে যার নামের সাথে আমার নামটা সবচেয়ে বেশিবার জড়িয়েছে, মেয়েদের মধ্যে আমাকে সবচেয়ে বেশীবার শুনতে হয়েছে তাঁর কথা।
প্রথম প্রথম খুব বিরক্ত লাগতো –মেজাজ বিগ্রে যেত। বিলাস একদিন জানতে চাইল, তাঁর সাথে আমার কী এমন রক্তের সম্পর্ক যে তাঁকে নিয়ে একটু ঠাট্টা -ইয়ার্কিও করা যাবে না?
ভাবলাম, তাইতো...!!!
এরপর ধীরে ধীরে আবিস্কার করতে লাগলাম, তাদের বিরক্তিকর সেই ঠাট্টা-ইয়ার্কি আমারও ভাল লাগতে শুরু করেছে।
আমিও প্রতিবেশিনীর প্রেম সমুদ্রে পড়েছিলাম। না... নিজে নিজে পড়ি নি, সবাই মিলে ঠেলা ঠেলি করে আমায় ফেলে দিয়েছিল। নেমে বুঝেছি, ‘অথাও’ গভীর এবং উথাল পাথাল সেই প্রেম –সমুদ্র পাড়ি দেয়ার সামর্থ্য আমার নেই। রোমিও-ফারহাদ হওয়া আমার কম্ম নয়।
তাছাড়া অনেক সময় পেড়িয়ে গেছে, আর সময় কই? প্রশান্ত তো প্রায়ই বলে, আমাদের অনেক বয়েস হয়ে গেছে [24]; আমাদের আর প্রেমে পড়ার বয়েস নেই।
সেও এখন 23-24, ওরকম ঝক্ ঝকে রুপ নিয়ে এখনও কী কেউ single রয়ে যেতে পারে? তাও আবার এমন এক জায়গায় যেখানে ছেলেরা রূপসী মেয়েদের বাতাশার টুকরা জ্ঞান করে দল বেঁধে তাঁদের পেছনে ছোটে।
ওসব প্রেম-পরিক্রমার মধ্যে আমি নেই। কারো চিন্তায় চিন্তায় নির্ঘুম নিশি যাপন –ও আমার দ্বারা হবে না।
[“প্রেমে পড়ার আবার বয়েস থাকে??” প্রশান্তর কথা শুনে প্রেম বিশারদরা রেগে উঠতে পারেন। ওর হয়ে আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।]
যেখানে আছি, যে সিচুয়েশানে আছি সেখানে থেকে আমি শুধু প্রতিবেশিনীর শুভাকাঙ্ক্ষীই হতে পারবো –বিশুদ্ধ শুভাকাঙ্ক্ষী। এর বাইরে কিছু নয়।
ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন প্রতিবেশিনীর সকল মনবাসনা পূর্ণ করেন। ভগবানের কাছে ওভাবে সাধারণত আমি কিছু চাই না, চাই নি.........


